আজ বাংলার বাঘ-এর ১৪৬তম জন্মদিন!

মোঃ ওয়াহিদ – ১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান রাজনীতিবিদ।

আজ প্রখ্যাত বাঙালি রাজনীতিবিদ,অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী।

১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান রাজনীতিবিদ। পিতা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মা সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র সন্তান ফজলুল হক ছিলেন বিশ শতকের প্রথমার্ধের বাঙালি কূটনীতিক।

রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের কাছে ‘শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ)’ এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার প্রাথমিক শিক্ষা হুরু হয় বাড়িতেই। প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে শিক্ষকদের খুবই স্নেহভাজন ছিলেন প্রিয় এই নেতা।

১৯১৩ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯১৫ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগ থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তার অদম্য চেষ্টার ফলে ১৯১৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কারমাইকেল ও টেইলার হোস্টেল স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের ডি.পি.আই হর্ণেল সাহেব তখন ফজলুল হকের শিক্ষা বিষয়ক উদ্যোগের প্রশংসা করে তাকে সম্মানিত করেন বাংলার ‘বেন্থাম’ হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ. কে. ফজলুক হক শিক্ষা ক্ষেত্রেই জোর দিয়েছিলেন বেশি। তার আমলে দরিদ্র কৃষকের উপরে কর ধার্য না করে সারা বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৪১ সালের তিনি দ্বিতীয় বারের মত মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চেরঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপকওছিলেন এ. কে. ফজলুক হক।

তিনি ছিলেন কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র। অংশগ্রহণ করেন খেলাফত আন্দোলনেও। ১৯৫৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় ফজলুল হকের বাস ভবনে কৃষক-প্রজা পার্টির কর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে দলের নাম থেকে প্রজা শব্দটি বাদ দিয়ে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ গঠন করা হয়। এই পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এ. কে. ফজলুক হক।

১৯৫৫ এর ৫ জুন সংখ্যাসাম্যের ভিত্তিতে পুনরায় গনপরিষদের নির্বাচন অণুষ্ঠিত হয় এবং কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। এ. কে. ফজলুক হক ছিলেন এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৫৬’এ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্ণরের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপরই তিনি তার ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৬২ এর ২৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ. কে. ফজলুক হক ৮৮ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়।

Related posts