আনোয়ারায় সিংহরা সদানন্দ স্মৃতি পাঠাগারের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি – “এসো বই পড়ি, আলোকিত সমাজ গড়ি ”

এই শ্লোগান নিয়ে গত ৩ আগস্ট সোমবার সকাল ১০ ঘটিকায় আনোয়ারা উপজেলাস্থ সিংহরা গ্রামে সদানন্দ স্মৃতি পাঠাগারের শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক, গবেষক ও বলাকা প্রকাশনের সত্বাধিকারি জামাল উদ্দিন, উদ্বোধক ছিলেন সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনন্দ মোহন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিবাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ খান চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য সুগ্রীব মজুমদার দোলন, দাতা সদস্য আরিফুর রহমান, আনোয়ারা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ হাসান চৌধুরী, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রামকৃষ্ণ চৌধুরী, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিত দাশ, কার্ণিভল স্কুল এর পরিচালক সুপ্লব চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সাংবাদিক খালেদ মনসুরসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সদানন্দ স্মৃতি পাঠাগারের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল গ্রামে একটি পাঠাগার করার। চট্টগ্রাম কলেজে পড়ালেখা অবস্থায় আমি চকবাজার ও স্টেশন রোডের পুরাতন বইয়ের দোকান থেকে বই ভাড়া নিয়ে পড়তাম। তখন থেকেই আমি স্বপ্ন দেখে আসছি গ্রামে একটি পাঠাগার করার। অনেক দেরীতে হলেও আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।

প্রধান অতিথি জামাল উদ্দিন বলেন, পাঠাগারকে শিক্ষাক্ষেত্রেরই ব্যাপ্তি বা সংযোজিত একটি অংশ বলা হয়। পাঠাগারে যিনি পড়াশুনা করতে যান তাঁর মনের দিগন্তটি প্রসারিত হবেই হবে। পাঠাগার তাই সভ্য সমাজের আশীর্বাদ বললেও অতুক্তি হয় না। আগে গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে পাঠাগার ছিল। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একে একে পাঠাগারগুলো বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস বিকৃতি করতে তখনকার প্রজন্মকে বই বিমুখী করা হয়েছিল। তারা সফল হইনি আবার দেশ তার সঠিকপথে এগিয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজদের প্রতি বলতে চাই- পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই, অন্ধকারে রই।

উদ্বোধক আনন্দ মোহন চৌধুরী বলেন, সদানন্দ চৌধুরী আমার প্রিয় ভাই। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার পদচারণা ছিল। আজ তার স্মৃতি রক্ষার্থে পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমি আনন্দিত। পাঠাগার হচ্ছে জ্ঞানের ভান্ডার। যে বইগুলো আমরা কিনতে পারিনা, সেই বই গুলো আমরা পাঠাগারে পাব। একটি পাঠাগার অনেক রকম বইয়ের সমাহার। সববয়সী মানুষকে পাঠাগারে এসে বই পড়ার আহবান জানিয়েছেন।

সভাপতি ফারুক আহমেদ খান চৌধুরী বলেন, আমি ১২ বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগদান করেছি কিন্তু পাঠাগার উদ্বোধনের মতো এই রকম অনুষ্ঠানে প্রথম যোগদান।

নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সদানন্দ চৌধুরীর সমাধিতে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Related posts