ইটভাটা গুড়িয়ে দিতে এসে জরিমানা করে ফিরে গেলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট!

নিজস্ব প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চলছে অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটা।তাদের কাছে নেই কোন পরিবেশ ছাড়পত্র।এতে আরো বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ ও তিন ফসলের জমি। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনকে তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ওই সব ইটভাটা বহাল তবিয়তে ইট তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন সাময়িক জরিমানা করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও ইট পুড়ানো শুরু হয়।
তবে এবার সাজোয়া বহরে পুলিশ র‍্যাব ফায়ার সার্ভিস ও স্কেভেটর নিয়ে এসেও আবারো জরিমানা করে রেহায় দিল শাহ মোহছেন আউলিয়া ব্রিকসকে।
আনোয়ারা উপজেলা শাহ্ মোহছেন আউলিয়া ব্রিকের ( এম বি এম) এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রিট অনুযায়ী মঙ্গলবার ( ১৯ জানুয়ারি) বেলা এগারোটার দিকে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিনের নেতৃত্বে ফের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় শাহ মোহছেন আউলিয়া ব্রিক মালিক পক্ষকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আফজারুল ইসলাম ও শেখ মুজাহিদ।
সরেজমিন আনোয়ারা বটতলী ইউনিয়নের হলদিয়া পাড়া এলাকায় সড়কের পাশে তিন ফসলের মাঠজুড়ে শাহ মোহছেন আউলিয়া ব্রিকস নামের একটি ভাটায় ইট তৈরি চলছে। অথচ এখানে সব জমি তিন ফসলি উর্বর আবাধি ক্ষেত হয়ে থাকে।
কিন্তু এই ইটভাটার কারনে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক।স্থানীয়রা প্রশাসনে বারবার অভিযোগ করলেও জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি।তাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দাদের সঙ্গে ভাটার বিষয় নিয়ে কথা হয়। তারা বলেন, প্রশাসন তো দেখছে ভাটাগুলো অবৈধ ও ইট তৈরির প্রক্রিয়াও অবৈধ। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন তারা।
এই বিষয়ে ব্রিকস বৈধ কিনা জানতে মালিক সামশুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এসব আপনি ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে কথা বলুন এই বলে ফোন কেটে নেন। এই ছাড়া তিনি স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে বলেন আমি এসব উপর থেকে প্রসেসিং করে এসেছি।আপনারা যা পারেন লিখে যান তাতে আমার কিছু আসে যাইনা।
অভিযান প্রসঙ্গে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় শাহ মোহছেন আউলিয়া ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদক জানতে চাইলে এর আগেও কয়েকবার একই অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে, তাছাড়া এসব জমি তিন ফসলি আবাধি জমি? তখন ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিন বলেন,এবার শেষ চান্স তিনমাসের মধ্যে কাগজপত্র ঠিক না করলে পুনঃরায় অভিযান করা হবে।

Related posts