বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ, সাইফুলের ছোট্ট মুখে ফুটল হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা আনোয়ারা
পড়াশোনার ফাঁকেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন অসহায় মানুষের পাশে। কারও রক্তের প্রয়োজন তো, জোগাড়যন্ত্র কাজে আছেন তাঁরা, শীতের কাঁপুনি যখন বড্ড বাড়ে, তখন তাঁদের কর্মব্যস্ততা শীতবস্ত্র সংগ্রহের। সংগৃহীত বস্ত্র হাতে তাঁরা ছুটে যান শীতার্ত মানুষসহ আনোয়ারার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়দের কাছে।
এই তরুণ দলের ঠিকানা—আনোয়ারার সামাজিক সংগঠন সারা আনোয়ারা। এটি চট্টগ্রামের তরুণ শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন।এইসব কার্যক্রমের কারণে সংগঠনটি এখন চট্টগ্রামের অনেকের কাছেই পরিচিত।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মালেক চৌধুরী জানান, প্রায় দেড় শ সদস্যের এ সংগঠন। ২০১৬ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারা বছরই তাঁরা সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেন। নিজেরা হাতখরচ বাঁচিয়ে তাঁরা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
১৪ বছরের সাইফুল থ্যালাসেমিয়া -সংক্রান্ত জটিলতায় মৃত্যুঝুঁকিতে ছিল। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা করার সাধ্য ছিল না। এগিয়ে এল সারা আনোয়ারার সদস্যরা। সাইফুলের জন্য ভালোবাসা’ স্লোগানে তিনবছর ধরে প্রতিমাসে রক্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসার খরচ হাতে নিয়ে সাইফুলের ছোট্ট মুখে ফুটল হাসি।
এইবার সেই ছোট্ট সাইফুলকে আনোয়ারা বরুমছড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টমশ্রেনীতে বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ করে দিলেন এই সংগঠনটি ।
গত ২০২০ সালে আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের খুরস্কুল গ্রামের এক বাবাহীন আর্থিক অস্বচ্ছল পরিবারে, মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেয়ে তানজিনা আকতার ( ১১) লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়ে আনোয়ারার অন্যতম সামাজিক সংগঠন সারা আনোয়ারা এই কার্যক্রম শুরু করেছিল ।

সারা আনোয়ারার কার্যক্রম নিয়ে আনোয়ারা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম জানান সংগঠনটি সমাজসেবামূলক নানামুখী কাজের জন্য ঘরে বাইরেও পরিচিতি পেয়েছে । তিনি বলছিলেন, সমাজের অসহায় মানুষের জন্য তাদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

Related posts