সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক উইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশর

ইমরান হোসেন জাবেদ || টেস্টের দুঃস্বপ্ন মুছে দিয়ে দুরন্ত জয়ে সিরিজ জিতে নিলো মাশরাফিবাহিনী। টস জিতে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দৃঢতায় ৬ উইকেট হারিয় বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩০১ রান। ৩০২ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত সময়ে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ২৮৩ রান। ফলে ১৮ রানে জয় পায় বাংলাদেশে। সেইসঙ্গে তৃতীয়বারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয়। বিদেশের মাটিতে ৯ বছর পর দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতল টাইগাররা। দেশের বাইরে এটি বাংলাদেশের পঞ্চম সিরিজ জয়। এছাড়া দেশের মাটিতে জিতেছে ১৭টি সিরিজ। এই নিয়ে মোট ২২টি সিরিজ জয় করল বাংলাদেশ।
দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জিতে নেয় ২০০৬ সালে। কেনিয়াকে তাদের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। বাংলাদেশ সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ জেতে ২০১৬ সালের অক্টোবরে। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারায় মাশরাফির দল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় এবং শেষ ওয়ানডে ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিংয়ের নেমে দিন ভালো শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ধীর গতিতে আনামুল হক বিজয় এবং তামিম ইকবাল করেন ৩৫ রানের জুটি। অনেকটা বেশি বল খরচ করে ১০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আনামুল হক বিজয়।
তবে এরপর সেই সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল আবারো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৮১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন এই দুইজন। ৩৭ রান করে আউট হন সাকিব আল হাসান। দলীয় ১৫২ রানের মাথায় ১২ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম।
তবে অন্য প্রান্ত থেকে ক্যারিয়ারের ১১ তম সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম ইকবাল। ১২০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তবে সেঞ্চুরি করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তামিম ইকবাল। দলীয় ২০০ রানের মাথায় ১০৩ রান করে আউট হন তামিম। তবে এদের চমক দেখালেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অন্যদিকে ৩০২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে দারুন শুরু করে দুই ওপেনার।দলীয় ৫৩ রানের মাথায় লুইসকে ফেরান ম্যাশ,দলীয় ১০৫ রানের মাথায় ৬৬ বলে ৭৩ রান করা ক্রিস গেইলকে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আউট করেন রুবেল হোসেন। গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শিমরন হ্যাটমিয়ার শাই হোপকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদেরকে বেশিদূর এগোতে দেয়নি মেহেদী হাসান মিরাজ।
শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ৪০ রানের। বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই জেসন হোল্ডার কে ৯ রানে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ দুই ওভারে তখন প্রয়োজন ৩৪ রানের। কিন্তু ৪৯ তম ওভারে এসে মাত্র ৬ রান দেন রুবেল হোসেন। আর যার কারণে শেষ ওভারের ম্যাচ যায় সহজ হয়ে যায় মুস্তাফিজের জন্য। বাংলাদেশ ম্যাচে জয়লাভ করে ১৮ রানে। তবে ৪১ বলে ৭৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন রভম্যান পাওয়েল।
ম্যান৷ অব দ্যা ম্যাচ ও সিরিজ হন তামিম ইকবাল।
সারা আনোয়ারার পক্ষ থেকে অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।
আগামী ৩১ জুলাইতে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুভ কামনা রইল৷ টাইগারদের জন্য।

Related posts

Leave a Comment