ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি কে হত্যা

আরিফ উদ্দিন
সারা আনোয়ারা

আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিশ্লেষণ এক সময়ে আমার কাজ ছিল। পুরোনো সে অভ্যাসের কারণেই ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানির নামটা জানতাম। অাজ মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর বিশ্বজু‌ড়ে শিরোনাম তি‌নি। ত‌বে যেভাবে তাকে হত্যা করা হলো সেটা সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

গণমাধ্যম বল‌ছে, আজ শুক্রবার ভোরে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল সোলাইমানির গাড়িবহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় সোলাইমানিসহ ছয়জন নিহত হন। প‌রে পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়ে‌ছে, যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনকে রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় সোলাইমানিকে হত্যা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন পলেসি’ জার্নাল ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে। এই তালিকার সমর খাতে জেনারেল সোলাইমানিকে প্রথম স্থানে রাখা হয়। অাস‌লে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘কুদস্ ফোর্স’ এই জেনারেলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। গত দুই যুগ ধরে বাহিনীটি গড়ে তুলছেন তিনি যার সদস্যরা পুরো মধ্যপ্র্যাচ্যে সক্রিয়। যাঁদের ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন এই জেনারেল। বিশ্ব তেলের বাজারের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ এলাকা তি‌নি নিয়ন্ত্রণ কর‌তেন। তাঁর মৃত্যুর পর তে‌লের দামও বে‌ড়ে গে‌ছে।

অবাক কাণ্ড হ‌লো, ইরানে ভক্তদের কাছে এই জেনারেল পরিচিতি ছি‌লেন হাজি কাসেম নামে। তব‌ে তারকা জেনারেলদের শরীরী ভাষায় যে ঔদ্ধত্য থাকে, কাসেম সোলাইমানি না‌কি একদম তার বিপরীত। শিয়া মিথে ভরপুর ইরানের সমাজে অনেকে তাঁর মাঝে দেখেন হজরত আলীর (রা.) বিশ্বাসী সহযোদ্ধা মালিক আল-আশতারের ছায়া। সরাসরি রণাঙ্গনে ঘুরতে পছন্দ করেন এই জেনারেল। সামরিক পোশাকে নয়, সাধারণ একটা জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা যেতো তাঁকে। ইসরায়েল, আইএস, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র সবার কাছে জেনারেল সোলাইমানি ছিলো এক আতঙ্কের নাম।

জেনারেলকে হত্যার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও টুইট করে তাঁর উল্লাস প্রকাশ করেছেন । এ বছর যে‌হেতু মা‌র্কিন প্রে‌সি‌ডেন্ট নির্বাচন কোন সন্দেহ নেই সে বৈতরণী পার হ‌তে এমন হত্যা। ত‌বে এমন হত্যা বি‌শ্বে শা‌ন্তির বদ‌লে যে নতুন সংঘাত তৈ‌রি কর‌বে সেটা বুঝ‌তে সমর‌বিদ হওয়ার প্র‌য়োজন নেই। রা‌শিয়া, ইরান সবাই পাল্টা জবাব দে‌বে। শুধু দেখার বিষয় সাম‌নের দিনগু‌লো‌তে ক‌তোটা সংঘাত তৈ‌রি হয়? অার ক‌তো মানুষ প্রাণ হারায়। জা‌নি না বিশ্বজু‌ড়ে চলা এই সন্ত্রা‌সের শেষ কোথায়? জানি না শা‌ন্তি মা অা‌দৌ অার কোন‌দিন ফেরত অাস‌বে কী না! বড় ভয় হয়। মানু‌ষের জন্য। দু‌নিয়ার জন্য।

Related posts