পরিবহন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বাঁশখালীর সর্বস্তরের জনসাধারণের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি –

বাঁশাখালীর মানুষকে জিম্মি করে বাঁশাখালী পরিবহন মালিক সমিতির বিভিন্নভাবে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা ও বাঁশখালীতে পরিবহন সেবা দিতে ইচ্ছুক, সকল বাস কোম্পানি (বিশেষ করে সানলাইন ও এস.আল কোম্পানী) কে যাত্রী সেবা প্রদান ও কাউন্টার করাসহ ৫ দফা দাবিতে বাঁশখালীর সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে অদ্য ৮ জানুয়ারি বুধবার বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস.এম. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ঐক্যবদ্ধ বাঁশখালীর মুখপাত্র আরিফুল হক তায়েফ’র পরিচালনায় ৫ দফা দাবি নিয়ে এক মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, ৫ দফা দাবিগুলো হল : (১) প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশাখালীতে পরিবহন সেবা দিতে ইচ্ছুক সকল বাস কোম্পানী (বিশেষ করে সানলাইন ও এস.আল কোম্পানী) কে কম পক্ষে ৪টি কাউন্টার স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রী সেবা প্রদানের সুযোগ করে দিতে হবে। (২) বাঁশখালীতে সেবাদানকারী সকল পরিবহনগুলোকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় সকাল ৬ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত যাত্রী সেবা দিতে হবে। (৩) কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের যথাযথ বসার ব্যবস্থা ও পয়োনিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। (৪) দুর্ঘটনা/এক্সিডেন্ট রোধে ফিটনেস বিহীন গাড়ী দ্বারা যাত্রী সেবা দেওয়া যাবে না। (৫) কাউন্টার ব্যতীত যাত্রী উঠা বন্ধ করা ও বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

উক্ত মানববন্ধনে ৫ দফা দাবি পেশ করে বক্তব্য রাখেন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের প্রভাষক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গিয়াস উদ্দিন জাহেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ওয়াহেদ, মোঃ আতাউর রহমান, বাঁশখালী ল’এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জাফরান আদনান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের সদস্য শহীদুল হাসান, একুশে ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শামিম উল্লাহ আদিল, হাসিমুখ ফাউন্ডেশন’র সদস্য শাহাবুদ্দীন, আতাউর রহমান, শাহ আমানত স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, হাফেজ আতাউল করিম, শাহাবুদ্দীন, মিজাবাহ উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, মোঃ ওয়াহেদ, রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ, কায়সার হামিদ, শাফায়েত হোসেন রকিব, চৌধুরী জসিমুল হক, আব্বাস উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, আমিনুল কবির সুমন, এ কে এম শাহাব উদ্দীন, রাহাত চৌধুরী, মাস্টার মিনহাজুল করিম, আমিনুল কবির সুমনসহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বাঁশখালীতে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালী বাস মালিক সমিতি বাঁশখালীর যাত্রীদেরকে জিম্মি করে হয়রানী ও বৈষম্যমূলক আচরণসহ জাতীয় বা ধর্মীয় বিশেষ দিনে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অন্য যাত্রী সেবা প্রদানকারী বাসসমূহকে সেবা দিতে বাধা প্রদান করে আসছে। সূত্র মতে অন্য কোম্পানী সেবা দিতে চাইলেও তাদের বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকিসহ এমনকি তাদের বাসে হামলা করে থাকে। বাঁশখালীর বাস মালিক সমিতির অনিয়ম, নৈরাজ্য, গলাকাটা ভাড়া, বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে এবং যাত্রী সেবা দিতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে অনুমতি এবং দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে সমস্যার দ্রুত সমাধান করার জন্য জোর দাবি জানান।

Related posts