আনোয়ারায় বন্যহাতি আতংকে দিনযাপন/ বন্যহাতি আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য মানববন্ধন

মোহাম্মদ মনির – চট্টগ্রাম কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার প্রতি গ্রামের মানুষ বন্যহাতি আতংকে
দিনযাপন করছে। প্রতি রাতে বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে বিভিন্ন ক্ষেত খামার ও বসতবাড়িতে দফায় দাফায় হামলা চালানোর ফলে গ্রামে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে উপজেলার মানুষগুলো।হাতির আক্রমন থেকে বাঁচতে বন বিভাগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে শুক্রুবার (৭ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় মানববন্ধন করেছেন বৈরাগ ইউনিয়নের জন-সাধারণ। উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের সেন্টার এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার ১নংবৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোঃ সোলায়মান, বন্দর গ্রামের মুজিবুর রহমান বুল, নুরুল আমিন,সাইফউদ্দীন, গুয়াপঞ্চক গ্রামের ডা.আহমেদুর রহমান, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলাইমান ইমরান, ফিরোজ, ফেরদৌস, সামসুল আলম মুন সহ বৈরাগ ইউনিয়নের জন সাধারণবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বন্য হাতি দিনে কোরিয়ান ইপজেড বাগানে আশ্রয় নিয়ে থাকে। ফলে বাগান মালিকপক্ষ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে, পাশাপাশি লোকালয়ে নেমে হামলা চালায় প্রাণহানি ঘটছে।তারা আরো জানান, খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা বন্য হাতির কবল থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চান তারা।

সূত্র মতে, পাহাড়ে বন্য হাতির উপযোগী খাদ্যের অভাবের কারণে প্রতিদিন বন্য হাতির লোকালয়ে নেমে আসে এবং মানুষের বাড়িতে, ক্ষেত খামারসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বন্য হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসে। বন্য হাতি খাদ্যের সন্ধানে মানুষের বসতবাড়ি ও আঙ্গিনা গুড়িয়ে দেয়। এসব বন্য হাতির পাল থেকে রক্ষা পেতে পালাতে গিয়ে অনেকে হামলার শিকার হয়েও মৃত্যুবরণ করেছে।

উপজেলার ১নংবৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোঃ সোলায়মান প্রতিবেদকে জানান, সম্প্রতি উপজেলায় বেশি বন্য হাতি তান্ডব চালাচ্ছে। যার কারনে মানুষ অধিকাংশ সময় নির্ঘুমে রাত অতিবাহিত করে। আক্রমণ থেকে এলাকার লোকজন রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থায়ী পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনসহ সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আনোয়ারায় দেড় বছরে হাতির
আক্রমণে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার আবদুর রহমান (৭০), ২০১৯ সালের ১৮ই আগস্ট বারখাইন ইউনিয়নের আবদুল মোতালেব (৬৮),১৫ জুলাই বৈরাগ ইউনিয়নের হুন্দ্বীপ পাড়ার আখতার হোসেন (৫০), ২৬ জুন বটতলী ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মোমেনা খাতুন(৬৫), ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি বটতলী ইউনিয়নের নুরপাড়ার গ্রামের সোলায়মান(৭০), ৩ফেব্রুয়ারি ১নং বৈরাগ
ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামের হিন্দুপাড়ার
অরুন কান্তি দে(৪৫)।এছাড়াও এসব ঘটনায় আরো অর্ধ শতাধিক আহত ও অনেক বসতবাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে বন্য হাতি।

বন্য হাতির আক্রমণে নিহত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা এবং আহত ব্যাক্তিদের ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ধরন অনুযায়ী সাহায্য দেয়া হয়। হাতির আক্রমণে নিহত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেয়া হয় বলে জানান আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবাইর আহমেদ।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন বিভাগের রেঞ্চ অফিসার আনিছুজ্জামান শেখ বলেন, আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি, এর পরেও মৃত্যু’র ঘটনা ঘটলে কি করার আছে।
তিনি আরো বলেন,হাতিগুলোকে সরানোর ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোন প্রস্তুতি নেই, হাতিগুলো সরাতে উপরের নির্দেশ লাগবে বলে জানান তিনি।

Related posts