অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধে করণীয়

মঈনুল ইসলাম
সারা আনোয়ারা

মানুষের অসাবধানতা ও অজ্ঞতার কারণে দিনদিন ঘটে চলছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হচ্ছে মানুষের কোটি কোটি টাকার সম্পদ, আহত ও নিহত হচ্ছে মানুষ। আমাদের একটু সাবধানতায় বেঁচে যেতে পারে অগ্নিকাণ্ডের থাবা থেকে, তাই অগ্নিকাণ্ড রোধে আমাদের সবারই সর্বাপেক্ষা সচেতন হওয়া জরুরি।

কয়েকদিনের ব্যবধানেই আনোয়ারা এর ভিতরে ঘটে গেল কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড।
কয়েকমাস আগে আনোয়ারা এর গোবাদিয়া গ্রামে ইয়াসিন খানের বাড়িতে আগুন লেগে ৬টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।তারপর কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা চাতরী চোমহনী ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্ট এ আগুন লেগে পুড়ে যায় পুরা রেস্টুরেন্ট সাথে কিছু দোকানপাট নষ্ট হয়ে যায় অনেক স্বপ্ন। ক্ষয়ক্ষতি যেমনই হোক না কেন আগুন কিন্তু সবসময় মারাত্মক। কারণ ছোট ছোট আগুনে মানুষ না পুড়লেও পুড়ছে মানুষের স্বপ্ন। এসব অগ্নিকাণ্ড হওয়ার একটাই কারণ মানুষ এর অসাবধানতা।

অগ্নিকাণ্ডের অনেক কারণ আছে।বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ধরণ ও প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য থেকে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডের কারণই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট। বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় তাড়াহুড়ো করেই হোক আর খরচ বাঁচাতে গিয়েই হোক নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সহজেই তা থেকে শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লাগছে।

বিপদে মাথা ঠাণ্ডা রাখা যেমন দরকার তেমনি জানা থাকা চাই বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার প্রন্থা।তবে তারও আগে চাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা।

বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবনে আগুন লাগার প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং আগুন লেগে গেলেও করণীয় কী সেসব বিষয় এখানে জানানো হল ‘বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডেফেন্স’ এবং ‘আন্তর্জাতিক জরুরি ব্যবস্থাপনা অ্যাক্রেডিশন প্রোগ্রাম’য়ের ওয়েবসাইট অবলম্বনে।

অগ্নি নির্বাপণে করণীয়

– দেরি না করে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনে সংবাদ দিন।

– শুরুতেই আগুন নিভানোর চেষ্টা করুন

– বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপনী যন্ত্র ব্যবহার করুন

– বৈদ্যুতিক লাইনে/যন্ত্রপাতিতে আগুন ধরলে পানি ব্যবহার করবেন না। বহনযোগ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড/ড্রাইকেমিক্যাল পাউডার এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করুন। না পেলে শুকনো বালি ব্যবহার করুন।

– তেল-জাতীয় পদার্থের আগুনে পানি ব্যবহার বিপজ্জনক। বহনযোগ্য ফোমটাইপ ফায়ার এক্সটিংগুইসার/শুকনো বালি/ ভেজা মোটা কাপড় বা চটের বস্তা দিয়ে চাপা দিন।

গায়ে বা পরনের কাপড়ে আগুন ধরলে মাটিতে গড়াগড়ি করুন।

অগ্নি-প্রতিরোধ

– রান্নার পর চুলা সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলুন।

– ভেজা জামা কাপড় চুলার উপর শুকাতে দেবেন না।

– গ্যাসের চুলা জ্বালানোর কমপক্ষে ১৫ মিনিট আগে রান্নাঘরের সকল জানালা/দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।

– গ্যাসের চাবি ঘোরানোর আগে ম্যাচের কাঠি ধরাবেন।

– গ্যাসের চুলার হোজপাইপটি ফাটা/ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবর্তন করুন।

– বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

– সঠিক মানের বৈদ্যুতিক তার/সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।

– অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মূল লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখুন।

– ক্ষতিগ্রস্ত/নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার/সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করুন।

– বাসাবাড়ি/প্রতিষ্ঠান অগ্নি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

– অগ্নি ঝুঁকি অনুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র মজুদ রাখুন।

– অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের প্রয়োগ ও ব্যবহার বিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিন।

যেকোনো বিষয়ের কারণ ও করণীয় সেই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই যৌক্তিকতায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও করণীয় আমাদের সচেতন করবে এমনটাই প্রত্যাশা। পাশাপাশি সরকারও জনগণের নিরাপত্তার জন্য ফায়ার সার্ভিস বিভাগের আধুনিকায়ন করবে এমনটাই আশা। অগ্নিকাণ্ড সকলের জন্য বিপজ্জনক তাই আসুন সকলে আগুনের নিরাপদ ব্যবহার করি ও সচেতন থাকি।

Related posts