আজ নাগ পঞ্চমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনসা দেবির পূজা ।।

মোঃ ওমর ফারুক

আষাঢ় মাসের পূর্ণিমার পর যে পঞ্চমী তিথি (শ্রাবণ) কে নাগ পঞ্চমী বলে। নাগ পঞ্চমীতে উঠানে সিজ গাছ স্থাপন, সর্প চিত্রিত ঘট বা মনসার মূর্তি দিয়ে মনসা দেবির পূজা করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজার মূল প্রতিপাদ্য হল মা মনসার উদ্দেশ্যে পাঁঠা ( মর্দ ছাগল) বলির মাধ্যমে মানুষের মনের পশুকে দমন করা। হিন্দু ধর্মমতে মনসা হচ্ছে সাপের দেবী, এ দেবীর পূজা করলে ঘর বাড়ি বিষাক্ত সাপ হতে রক্ষা পায় এটা বিশ্বাস করে হিন্দুরা। দেবীর সারা গায়ে অলংকার হিসেবে বিভিন্ন সাপ জড়ানো থাকে। মানুষের মনের পশু দমনে এ দেবীর উদ্দেশ্যে পাঁঠা, ভেড়া,হাঁস, কবুতর,কচ্ছপ, আখ,ফল ফলাদি বলি করা হয়।অনেক হিন্দু মনসা পূজায় পাঁঠা বলি করেন না। তারা দুধ কলা ও ফলমূল দিয়ে দেবীর পূজা করেন, এই পূজাকে সাদা পূজা বলা হয়। যাহারা ছাগল বলি দেন তাদের পূজা লাল পূজা। যে পাঁঠা গুলো বলি করা হয় বলির পর সেগুলোর সর দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে একটি পাত্রে রাখা হয় এবং দেবী মনসার পায়ের নিচে রাখা হয়। এতে করে বলি করা পশুটি দেবীর নামে উৎসর্গ করা হয়।
এর অংশ হিসাবে পরৈকোড়া, পূর্বকন্যারা, মাহাতা, দেওতলা,পাঠনিকোঠা, তাতুয়া,বাথুয়া, ববূমচড়া,বটতলি সহ আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকা এক যোগে পাঁঠা বলিদান অনুষ্টিত হয়।এই বলিদান উপলক্ষে শহরগামী মানুষ গ্রামে ফিরেছে একমাত্র মা মনষা সন্তুষ্টি লাভের জন্য। সবাই যে যার সাধ্য মতো করে ছাগল ক্রয় করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাগল ক্রয় করে এলাকায় রের্কড করলেন পূর্বকন্যারা গ্রামের রাজিব দত্ত রিংকু,সে ২টা ছাগল ৩২৫০০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন,
রিংকু সারা আনোয়ারাকে বলেন,প্রতিবছর আমি বড় ছাগল ক্রয় করি, এসব ছাগলে মাংস গরীব দুঃখীদের মাঝে বন্টন করি, আর বাকি গুলো পরিবার পরিজন নিয়ে মিলেমিশে প্রসাদ হিসেবে গ্রহন করে।
হিন্দু ধর্মালম্বীরা তিথিতে বিশ্বাসী,প্রথম তিথি শুরু হয়েছিল সকাল ৮:৩০ ,তার মধ্যে বলিদান শেষ করতে হয়। আর দ্বিতীয় তিথি শুরু হয় দুপুর ১২:২০ থেকে,চলবে রাত ১২ টা পর্যন্ত।।
ছাগল বলিদানের পূর্বে পুকুর থেকে ছাগল গুলো গোসল করে নিতে হয় তারপর শুরু হয় মহাযজ্ঞ পাঁঠা বলিদান। ধর্ম, বর্ণ , নির্বিশেষে সবাই উপভোগ করে এই উৎসব।

Related posts

Leave a Comment