আনোয়ারায় প্রথমবারে মত সুর্যমূখী চাষের বাম্পার ফলনে মুখরিত কৃষকরা!

মহিউদ্দীন মনজুর

সারা আনোয়ারা
০৫-০৩-২০২০

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতা ও পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ১২০ শতক কৃষি জমিতে সুর্যমূখী চাষের বাম্পার ফলনে মুখরিত হয়ে আবাদ করেছেন চাষিরা।

নোয়াখালী,ফেনী,লক্ষীপুর ও চাঁদপুর থেকে বারি সুর্যমূখী জাতের বীজ এনে আনোয়ারার বৈরাগ,বরুমচড়া,শোলকাটা ও পরৈকোড়া ইউনিয়ন এলাকার কৃষকদের মাঝে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান এর তত্ত্বাবধায়নে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করেন।

তার পরামর্শে কৃষরা গত ২২ ডিসেম্বর জমিতে বীজ রূপণ করে দুইমাস পরিচর্যা করে মাট পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই সুর্যমূখী ফুল।

এই সুর্যমূখী ফুল চাষের বাম্পার ফলনের ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন,সুর্যমূখী চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। এখানে সেচ লাগেনা বা তেমন কোন কীটনাশক ঔষুধ ব্যবহার করতে হয়না, ধান ক্ষেতের চেয়ে চার ভাগের এক ভাগ সার দিলে হয়। কোন খুবি কম খরচে শতকে আয় হয় বোশী।বাংলাদেশে যে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে তেল আমদানি করা হয়,তার চেয়ে সুর্যমূখী ফসলে এখানে সয়াবিন ও সরিষা তেল সহ ইত্যাদি একটা গুরুত্বপূর্ণ একটি ভুমিকা পালন করবে।তিনি আরো জানান আনোয়ারা উপজেলা হচ্ছে একটি উপকূলীয় এলাকা যেখানে লবণাক্ত জায়গার ফলে সুর্যমূখী চাষ বেশি ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।এবারে আনোয়ারার প্রায় দেড় একর জমিতে এই সুর্যমূখী চাষের ফলন হয়েছে।কৃষকের আগ্রহে এই প্রথম আনোয়ারাতে আবাদ হয়েছে এবং এই চাষের ফলে আগামী বারে কৃষরা সুর্যমূখী চাষে আরো মুখরিত হয়ে আবাদ করলে সফলতা আসতে পারে।

এ ব্যাপারে সুর্যমূখী বাগানের মালিক এস এম মহিউদ্দীন বলেন,আমি প্রথমে এই সুর্যমূখী বাগানের চাষ টেলিভিশনে দেখে প্রফুল্ল হয়,এবং আগ্রহী হয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে আমার ৩০ শতক জমিতে চাষ করতে পরিচর্যা করি।এতে আমার তেমন খারচ হয়নি বীজ এবং সার উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে পেয়েছি আমার খরচ হয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা।বর্তমানে বাম্পার ফলনে পরিণত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই সুর্যমূখী চাষ দেখতে আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ভিড় জমতে দেখা গেছে এবং এই সুর্যমূখী চাষের ফলে সামনে মৌসুমে কৃষকদের আরো আগ্রহ বাড়তে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন দর্শনার্থীরা।

Related posts