আমাদের তামিম, নেজাম ও টিম হেল্পলেস ফাউন্ডেশনের এর গল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি ||

তামিম আর নেজামের বাড়ি আনোয়ারা থানার বরুমচড়া ইউনিয়নে। বরুমচড়ার আরো আছে নিজাম শেওয়ানা, কলিম উদ্দিন। গ্রাম থেকে চট্টগ্রাম শহরে চলছে তাদের মানবতার কার্যক্রম আর তা ছড়িয়ে দিয়ে চায় সারা বাংলাদেশে।

তাদের মুখেই শুনুন গল্পটা –
আমরা তিন জন বন্ধু নিয়ে শুরু করি ,আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পরিচিত ১০জন বন্ধুদের বলব। ওরা আর ১০জন বন্ধুকে বলবে অসহায় গবির শিশুদেরকে সাহায্য করার জন্য, এগিয়ে আসার জন্য…এইভাবে আমরা টোটাল ১০০জন থেকে ১০০টাকা নিয়ে প্রথম ইভেন্ট সফল করি।

প্রথম ইভেন্টে-
বাঁশখালী সাধনপুরের তিনটি মাদ্রাসায় ১৬০জন শিশুদের জন্য ঈদের নতুন জামা দিই।

দ্বিতীয় ইভেন্ট –
আয়োজন ছিল গরীব শীতার্তদের কম্বল বিতরণ। সেবারের পরিকল্পনায় ছিল চট্টগ্রামের চার উপজেলার পাঁচটি গ্রামে কম্বল বিতরণ। মোট ৬০০ কম্বলের মধ্যে আনোয়ারার বরুমচড়ায় গ্রামে কম্বল দেয়া হয় মোট ২৫০টি, পটিয়া থানার অর্ন্তগত নবগ্রহ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ১০০টি, বোয়ালখালী জেলার জয় কালী বাড়ি এলাকায় ১২০টি এবং রাংগুনিয়ার কলেজ গেইট এবং লিচু বাগান এলাকায় ১৮০টির মত বিতরণ করা হয়েছিল।

৩য় ইভেন্ট-
উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় চারদিকে যখন শুধু পানি আর পানি তখন আমরা সবাই টিভির সামনে বসে সেই খবর শুনে হা -হুতাশ করছি।১৮ আগস্ট হটাৎ করে দেখলাম এক ছোট ভাই আমাদের টিমের পেজে একটি পোস্ট দিল,”তামিম ভাই, বন্যাথ’দের নিয়ে কিছু করতে পারি না আমরা…?”
সেটা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাই নেমে পড়ি বনার্থদের সাহায্যে।মাত্র ছয়দিনে আমরা ৩৫০পরিবারের জন্য চাল,চিড়া, মসুর ডাল,গুড়,বিস্কুট এবং ওরস্যালাইন নিয়ে ২৪আগস্ট চিটাগং থেকে রওনা দিই সিরাজগঞ্জের শিতলপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে।দীর্ঘ ৩৬ ঘন্টা ট্রাক এ করে আমরা সবাই পোঁছাই আমাদের গন্তব্য স্থানে।সেখান থেকে নৌকা করে যায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এক দুর্বিষহ গ্রামে যেখানের মানুষের জীবন খুব কষ্টের।এই ৩৫০পরিবারের মুখের হাসিতে তখন ভুলে গেছি শত কষ্টের কথা।

৪র্থ ইভেন্ট –
“ক্যান্সার যদি কাগজ হতো তাহলে আগুন দিয়ে ক্যান্সারকে পুড়ে ফেলতাম। কিন্তু ক্যান্সার কাগজ নয়, ক্যান্সার হচ্ছে আগুন যা আমাকেই পুড়ে ফেলছে।” -মিনহাজ একজন মৃত্যুপথযাত্রী কতটা অসহায় হয়ে পড়লে এরকম একটা কথা লিখতে পারে সেটা আঁচ করতে পেরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই ছেলেটির জন্য কিছু একটা করব”। প্রথমে আমরা কিছু স্কুলে ক্যম্পেইন করি সেখানে সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি, আমার এখনো মনে আছে, চট্টগ্রামের স্বনামধন্য একটা স্কুলে ক্যাম্পেইন করে, মাত্র উঠেছিল ৪৭ টাকা তারপরো আমার আরো কিছু স্থানে ক্যম্পেইন করার সিদ্ধান্ত নেই। তারপর একসপ্তাহ শেষে ক্যাম্পেইন থেকে উঠে প্রায় এক হাজার টাকা শেষে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমাদের কিছু একটা করার প্রয়োজন সেখান থেকেই আমাদের ইভেন্টের জন্য কাজ শুরু করি এবং মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামে একটি সফল্ভাবে কন্সার্ট করি।যে কনসার্ট এ warfaze,ashes, metrical, natai band, অদৃশ,সহ ৮টি ব্যান্ড দল পারফরম্যান্স করেন।
আমাদের উত্তোলিত অর্থ আমরা মিনার কেই দেই।

এভাবে আমাদের ইভেন্টের সংখ্যা ১০০ থেকে ১,০০, ০০০ থেকে অসীমের দিকে যেতে চাই।

Related posts

Leave a Comment