কর্ণফুলীতে পাসের হারে এগিয়ে মরিয়ম আশ্রম স্কুল অন্যদিকে পিছিয়ে কালার পোল স্কুল

নিজস্ব প্রতিনিধি – করোনা মহামারির কারণে কিছুটা দেরিতে হলেও প্রকাশিত হয়েছে সকল শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল।
রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় বরাবরের মত এবারো কর্ণফুলী উপজেলায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী মরিয়ম আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়। পাশাপাশি সর্বাধিক এ প্লাস নিয়ে এবারে এগিয়ে রয়েছে পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয়।
ফলাফল বিশ্লেষণে উপজেলার এমপিওভূক্ত স্কুলগুলোর অবস্থান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মোট ৫৮জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে যাদের মধ্যে পাশ করেছে ৫১ জন। পাশের হার ৮৭.৯৩ শতাংশ। গ্রেড পয়েন্ট এভারেঞ্জ (জিপিএ) কিংবা এ প্লাস পেয়েছে মোট ১১ জন শিক্ষার্থী যা এ জেলায় অন্যান্য স্কুলের তুলনায় সর্বাধিক। মরিয়ম আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৮৬ জন। পাশের হার ৮৯.০০ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছে একজন। দৌলতপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৩৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩০৫ জন। পাশের হার ৮৮.৪১ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছে ৪ জন। এ জে চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭০ জন। পাশের হার ৮৬.২৯ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছে ৪ জন। চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৬৪৪জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৭৪ জন। পাশের হার ৭৩.৬০ শতাংশ। এ প্লাস পেয়েছে ১ জন। কালার পোল হাজী ওমরা মিঞা চৌধুরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৩১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ২১০ জন। পাশের হার ৬৭.৭৪। জিপিএ ৫ শূণ্য।
জানা যায়, মরিয়ম আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় স্কুলের এমন কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে খুশি স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু কর্তা এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন ফলাফল অবশ্যই প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমাকে গৌরবান্বিত করেছে। তবে এর দাবিদার আমি একা নই। স্কুলের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রয়াসের ফলাফল এটি। আমি সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। আশা করছি আগামীতেও এমন ফলাফল অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন এই গৌরব অর্জনে আমাদের পরিশ্রমের শেষ ছিল না শিক্ষার্থীদের থেকে নিয়মিত মডেল টেস্ট পরীক্ষা সহ অভিভাবকদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ছিল।অভিভাবকরা যদি আরেকটু সর্তক হন তাহলে জিপিএ-৫ এর দিকেও আমরা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও স্কুলটির শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক সংখ্যক এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলো।
পুরো উপজেলায় ফলাফলে নিম্নমূখী কিংবা পিছিয়ে থাকা কালার পোল হাজী ওমরা মিঞা চৌধুরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান এর কাছে এমন ফলাফলের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ পুরোপুরি তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অথচ নানা সমালোচনা ও আলোচনায় সাময়িক অব্যাহতিতে থাকা প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম চৌধুরী থাকতে পাসের হার ছিলো উর্ধমূখী।
এছাড়াও, কর্ণফুলীতে আরও কিছু সংখ্যক মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো এমপিওভুক্ত নয় কিন্তু আশেপাশ বা শহরের কোন না কোন স্কুলের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে থাকেন। এসব স্কুলও ভাল রেজাল্ট করেন। কিন্তু তা উপজেলায় পাশের হারে গণণা আসে না। যেমন এবারে শিকলবাহার সাউথ চিটাগাং গ্রামার স্কুলের পাশের হার ছিল ৮৬ শতাংশ।
কর্ণফুলী উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে সন্তুষ্ট কিনা এবং উপজেলার বেশকিছু মাধ্যমিক স্কুল কেন অন্য উপজেলার স্কুলের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এমন প্রশ্ন রেখে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘নানা জটিলতায় আসলে তা সম্ভব হয় না। সব স্কুলের ফলাফল সরকারি সাইটে রয়েছে। একটু ব্যস্ত রয়েছি বড়উঠানে যাচ্ছি অন্যদিন বিস্তারিত জানাব বলে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন।

Related posts