কর্ণফুলীতে মুরগীর দাম উঠানামা করলেও উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস

নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মাঝে মাঝেই মুরগির দামে ওঠানামা করতে দেখা গেলও দীর্ঘদিন ধরে একই দামে বিক্রি হয়ে আসছিল গরু ও খাসির মাংস। অন্যান্য বাজারের চেয়ে উচ্চ দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে।

তবে রবিবার (০২ মে) সকাল থেকে উপজেলার কলেজ বাজার, শিকলবাহা মাস্টারহাট ও পুরাতন ব্রিজঘাট বাজারে ঘুরে জানা গেল ভিন্ন তথ্য-ব্রয়লা, লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগির দাম উঠানামা করলেও অপরিবর্তিত রেখেছে গরু ও খাসির মাংসের দাম।

জানা যায়, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে গরু ও খাসির মাংসের দাম অন্যান্য সময়ের চেয়ে কেজি প্রতি ৫০থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ‘চাহিদার তুলনায় বাজারে মাংসের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি।’

এদিকে, করোনার কারণে মানুষে আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও উপায়ান্তর না থাকায় এই রমজানেও বেশি দামেই মাংস কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে, চাহিদা-জোগানের হেরফের না হলেও কলেজ বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, খাসি ৮০০ টাকা, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী ১৩০ টাকা। অন্যদিকে, চরপাথরঘাটার পুরাতন ব্রীজঘাটে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগী ২৫০ টাকা, লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগি কিংবা সোনালী ২৭০ টাকা ও দেশী-৫০০ টাকা। শিকলবাহার মাষ্টার হাটে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০, খাসি ৮০০ টাকা, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী ১৪০ ও লাল লেয়ার মুরগী ২৪০ টাকা।

এদিকে পুরাতন ব্রীজঘাটে মাংসের পাশাপাশি বাজারে মাছ বিক্রি কমেছে। কারণ, আগে যিনি ৪ কেজি মাছ কিনতেন এখন কিনেন ২ কেজি, আর আগে যিনি ২ কেজি কিনতেন এখন কিনেন ১ কেজি। অন্যান্য সময়ের চেয়ে মাছের দামও চড়া। মুদির দোকানে আরও বেড়েছে তেল, আটা-ময়দার দাম। অবশ্য বেশিরভাগ সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে করলা, লাউ শসা, লেবু ও কলা।

বাজার ঘুরে আরো দেখা গেছে, আগের দিনের তুলনায় মাংসের দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই। হয়ত ২৬ রমজানে আবার মাংসের চাহিদা বাড়তে পারে।

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এখন বাড়তি মাংসের দাম। তবে অন্যান্য দিনের মতোই, আমরা মাংসের দাম বাড়াইনি।’

কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা ভিন্ন তথ্য দেন, ‘যারা গরু ব্যবসায়ি তারা বাকিতে গরু ও খাসি কিনে আনেন বেশি মূল্যে। কারণ হাট বাজারের বড় গরুর ব্যবসায়িরা খুচরা মাংস ব্যবসায়িদের কাছ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত বকেয়া পায়। বাড়তি দামে গরু কিনতে বাধ্য হন মাংস ব্যবসায়িরা। ফলে এর প্রভাব পড়ে সাধারণ ক্রেতাদের উপর।’

বাজার করতে আসা আইনজীবি আনোয়ার হোসেন ও ব্যবসায়ি রাসেল হকের সাথে কথা হলে তাঁরা দাবি জানান, ‘উপজেলা প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা, পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়ন ও গৃহীত কার্যক্রমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুকান্ত সাহা বলেন যদি এই রকম কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Related posts