জমিদার যোগেশ চন্দ্রের রাজধানী – পরৈকোড়া

আবদুল মালেক চৌধুরী ।।  আনোয়ারা থানার পরৈকোড়া, ১৫০ বছর আগে ছিল ঝাঁকজমকপূর্ণ , লোকে লোকারণ্য, জৌলুশপূর্ণ ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত প্রতাপশালী জমিদার যোগেশ চন্দ্রের রাজধানী।

জমিদার যোগেশ চন্দ্র রায় ১৮৩৪ সালের দিকে মূল জমিদারী স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী, জনদরদী,মহানুভব ও দানশীল এবং বিলাসী প্রকৃতির মানুষ। তাই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দিয়েছিলেন।

তার রাজপ্রাসাদটি প্রায় ৪০ কানি জায়গার উপর নির্মিত । ১৮৫০ সালের দিকে তখনকার প্রবল প্রতাপশালী জমিদার বৈদ্যনাথ দেওয়ানের আমল থেকে বাড়িটির বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয় বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। রাজপ্রাসাদের কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথে ৪টি বলয়রেখা অঙ্কিত ও হরেক নকশা করা তোরণ। যা উঁচু উঁচু খুঁটি ও পুর্তগীজ সভ্যতার শৈলী শিল্পে করা নকশা খচিত তোরণ গুলো চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বেলতলা পুকুরের মাঝ খানে পিতলের তৈরি পান্থশালা ছিল সেসময়। আর ও রয়েছে ৪টি বড় বড় পুকুর,খেলার মাঠ,নাচ ঘর,খাজনা ঘর,মাগুব ঘর, বৈঠকখানা, অভ্যর্থনা প্রাচীর,পুঁড়াবাড়ি, সিতলা মন্দির,জালাতনী মন্দির,দশভূজা মন্দির, বিশ্রামাগার।
উত্তর পাশে সুউচ্চ গম্বুজসম্পন্ন মন্দিরের নিদর্শন – লোক মুখে শুনা যায়, জমিদার সেখানে বসে জ্যোৎস্না দেখতেন।
ভেতরে গিয়ে চোখে পড়ে অসাধারণ সব কারুকাজ। কিছু কিছু চুন-সুরকি খসে পড়লেও ছাদের বড় বড় লোহার পাটাতন দেখেই বোঝা যায় হারানো দিনের জৌলুশ। কয়েকটি ভবন একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। জমিদারবাড়িতে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যাওয়ার জন্য সাতটি তোরণ ছিল। এখন টিকে আছে দুটি। তিনটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষও চোখে পড়ে।
যোগেশ চন্দ্র রায় মারা যান বাংলা ১৩৫০ সনের ১৫ মাঘ। এরপর তাঁর তিন ছেলে পূর্ণেন্দু বিকাশ রায়, সুখেন্দু বিকাশ রায় ও অমলেন্দু বিকাশ রায় জমিদারির হাল ধরলেও ধীরে ধীরে জমিদারি জৌলুশ হারাতে থাকে।

যোগেশ চন্দ্র রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট –
ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠায় দুই ধরনের মতামত পাওয়া যায় ।

এক –
জমিদার যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ি সহ সমুদয় সম্পত্তি তাদেঁর উত্তরসুরী প্রয়াত শ্রী মতি পারুল কুসুম রায় ,বাবু বিশ্বশ্বের দাশগুপ্ত,ডঃগুরুপদ চক্রবত্তী,আহমদ মিয়া, মরহুম শামসুল ইসলাম,প্রনব দাশ,মরহুম অধ্যক্ষ হোসেন খাঁন,জিতেন্দ্রলাল দত্ত(এডভোকট) সহ গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তির অনুরোধে প্রায় ২৫ বছর পূবর্ তদানিন্তন সাংসদ সদস্য জনাব আকতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সক্রিয় পৃষ্টপোষকতায় যোগেশ চন্দ্র রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।

দুই –
আবার স্থানীয় কিছু অধিবাসীরা জানান, জমিদারের উত্তরসূরি আমেরিকায় বসবাসরত অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনিমেষ রায় আরও কয়েকজন গুনীজনকে নিয়ে ১৯৮৮ সালে গঠন করেন যোগেশচন্দ্র রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ।

পরে ২০০২ সালে যোগেশ চন্দ্র রায় বাহাদুরের বেঠক খানায় ট্রাস্ট এর নেতৃত্বে এবং গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের সক্রিয় সহযোগিতায় কলেজ প্রতিষ্টিত হয়।

সারা আনোয়ারা
সংকলনে,
২৬-০২-২০১৮, 
ছবি – আতিকুল হক বাবুল, মোহম্মদ আজম, ছলিম আল আনোয়ার।

Related posts

Leave a Comment