দিদার – ফিরে আসবেই

এ এইচ এম নিজাম চৌধুরী : পুরো নাম “ইকবাল হোসেন দিদার” নিজের দুরন্তপনা ও পারিবারিক অজ্ঞতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার পর আর পড়ালেখা হয়নি তার। কিন্তু তার মেধা ও বুদ্ধির কাছে হার মানত সময় বয়সী বন্ধুরা। পরিবারের বড় ছেলে দিদার। ৯১ প্রলয়ংকারী ঘূর্ণি ঝড়ে বাবার একটি পা নষ্ট হয়ে যায়, সেই থেকে স্থায়ী উপার্জন বন্ধ পরিবারের। দিদার বড় হতে থাকে দুষ্টামি , মারামারি , খেলাধুলা এসব নিয়ে।

কিন্তু কতদিন আর । ইতিমধ্যে তার বাবা ও পরপারে চলে গেছেন । ১২ বছর বয়স থেকেই পরিবারের দায়ভার আসে তার উপর । শুরু হয় নতুন এক তিক্ত জীবন। তার কাছে দেখেছি পরিস্থিতির সাথে জীবন কে কিভাবে মানাতে হয়। ১২ বছর বয়সে বাজারে বিক্রি করত – ঘরের তৈরী রস মালাই , পলি ব্যাগ , ফলমূল , মাছ । তাই করে করে মা-ছোট ভাইদের ভরণ পোষণের পর্ব শুরু করে।

১২ বছর বয়সে পরিবারের হাল ধরা কিশোর দিদার ২০ বছর বয়সে এসে মিনি ট্রাকের হেল্পারের চাকরি নেয় এক চাচার মাধ্যমে। বছর ঘুরতেই ড্রাইভার। লাইসেন্স বিহীন ড্রাইবিং করতো গ্রামের সমুদ্র সড়কে।
মৎস ব্যবসায়ীদের মাছের ভাড়া নিয়ে গাড়ী চালত। বেশি উপার্জনের জন্য মাছের মৌসুমে জেলেদের সাথে সমুদ্রে যেত মাছ ধরতে। ড্রাইবিং ও সমুদ্রের মাছ ধরে উপার্জন ভালই হচ্ছিলো। সুখের পরশ আসে কিছুটা , চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে বিয়ে করে ২৪ বছরের যুবক দিদার। বছর ঘুরতেই তাদের যুগল পরিবারে আসে ফুটফুটে একটা শিশু।

এরই মাঝে মাছের মৌসুম শুরু হয়। খবর এলো খুব বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে সমুদ্রে , দিদার কি বসে থাকতে পারে ? স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্বেও নবাগত শিশুকে আদর করে , মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সমুদ্রে যায় দিদার।

ঐ দিন দিবাগত রাতে হঠাৎ কাল বৈশাখীর প্রভাব , সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে একাদিক মাছ ধরার নৌকা।

সকাল হতেই সমুদ্রে যাওয়া নৌকা ফিরে আসে , ফিরে আসা মাঝিরা। বলে দুটি মাছ ধরার নৌকা ঝড়ের কবলে পরে ডুবে যায় , শুরু হয় স্বজনদের আহাজারি , বাদ যায়নি দিদারের পরিবার , কারণ সেও নিখোঁজ।

একদিন ,দুইদিন,, সপ্তাহ,,মাস,,, বছর শেষ হলো দিদার ফিরে এলোনা। দিদার কি বেঁচে আছে ? না মরে গেছে ,,,,, না না দিদার মরতে পারে না এমন বিশ্বাস তার মায়ের , তার স্ত্রীর ,, তার ছোট ভাইদের।

কাল বৈশাখী কালো করে দিলো সেই পরিবারটিকে ,,,,,
দিদার ফিরে আয় ভাই ,,,,, ফিরে আয়।

বি. দ্র – এটি একটি বাস্তব গল্প –
বাস্তব চরিত্র –
চরিত্রের পরিচিতি :- নাম : ইকবাল হোসেন দিদার
পিতা :- মীর আহমদ চৌধুরী
মাতা :- মোহসেনা খাতুন
আহমদ শাহ চৌধুরী বাড়ি।
৩ নং রায়পুর ইউনিয়ন , আনোয়ারা ,চট্টগ্রাম।

Related posts

Leave a Comment