পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল আনোয়ারায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা

নিজস্ব প্রতিনিধি:চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকতে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দিতে রিকশাভ্যান, ট্রাক, পিকআপযোগে আনোয়ারা কর্ণফুলীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নিয়ে যান ভক্তরা।

গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে পারকি বিচে শুরু হয় একে একে প্রতিমা বিসর্জন।

তেল-সিঁদুর পরিয়ে, পান, মিষ্টি মুখে দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে পারকি সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেছেন ভক্ত ও অনুরাগীরা। নানা ধর্মের, নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা মর্ত্যে এসেছেন দোলায় চড়ে। কৈলাসে ফিরে যাচ্ছেন গজে (হাতি) চেপে।

আবার ‘গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’৷ অর্থাৎ মা গজে গমন করলে পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে এবং শস্য ফলন ভালো হয়৷ সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ থাকে মর্ত্যভূমি৷

সকাল থেকে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাকবাহী প্রতিমা নিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পূজারী ও ভক্তরা জড়ো হতে শুরু করেন পারকি বিচে। এরপর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের পালা। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এবার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শঙ্খ উলুধ্বনির পাশাপাশি বাদ্যের ঘণ্টা বাজিয়ে ‘জয়, দুর্গা মায়ের জয়’ বলে একের পর এক প্রতিমা ভাসিয়ে দেওয়া হয় সাগরে।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্ণফুলী থানার ৭টি এবং আনোয়ারা থানার ৫টি সহ মোট ১২টির মতো প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

সোমবার মহাদশমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। দুর্গার বিদায় উপলক্ষে সকাল থেকে বিদায়ের সুর বেজে উঠে বিভিন্ন মণ্ডপে।

এইসব বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার(এসি) ইয়াসির আরাফাত বলেন শান্তিপূর্ণভাবে পারকি বিচে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সৈকত ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও খুব সুন্দর ভাবে যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনা-ধর্মীয় মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন দিতে ভীড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নৌ প্রকৌশলী রামচন্দ্র দাশ বলেন প্রতিমা নিয়ে সরাসরি সমুদ্রের পানির কাছে চলে যাওয়া, সুবিশাল পরিসরের হওয়ায় পরিবার, আত্মীয় ও প্রতিবেশীসহ মাঙ্গলিক কাজ সম্পন্ন করতে পারেন বলে এখানে সবাই ভীড় করে।

Related posts