প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে উৎসবমুখর চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা আনোয়ারা

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রামবাসী। তার আগমন ঘিরে চট্টগ্রামে এখন সাজ সাজ রব। বিশেষ করে গোটা শহরকে সমাবেশস্থলে পরিণত করার প্রস্তুতি চলছে। সেই লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

তিনদিন বাদে, রবিবার (০৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিন পর তার আগমন উপলক্ষে শুধু শহর নয়, গোটা চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে পলোগ্রাউন্ডে প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ।

সেই সঙ্গে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। প্রতিদিনই বের করা হচ্ছে প্রচার মিছিল এবং চলছে দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের কর্মিসভা ও প্রস্তুতি সভা। নেতাকর্মীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সভানেত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে।

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ কর্মী জুয়েল চৌধুরী চট্টগ্রাম শহরে এসেছিলেন কেনাকাটা করতে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নজিরবিহীন প্রচার-প্রচারণা চলছে। গ্রামের পথে পথে চলছে মাইকিং। নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাজারঘাট এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়েও জনসভায় আসার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণসহ দেশে অনেক বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। অনেক বড় বড় প্রজেক্ট চলমান রয়েছে। দেশ বিনির্মাণে ইতোপূর্বে যেসব সরকার গঠন হয়েছে তার মধ্যে এ সরকারের অবদান অনেক বেশি। ফলে তার আগমনে মানুষ ব্যাপক হারে সাড়া দেবে। আমরাও নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছেন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ। উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভাসছেন তারা।

শহরের রিয়াজুদ্দিন বাজারের মুদি দোকানি ফারুক পারভেজ বলেন, ‘বহুদিন পর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। তাকে দেখতে বহু মানুষ যাবে; তার বক্তব্য শুনবে। আমিও যাব। আসলে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশে উন্নয়ন হয়। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হয়। তার বিকল্প নেই। আমরা আগামীতেও তাকে চাই।’

ছাত্রলীগ নেতা জাহেদুল আলম সুমন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ভালোবাসি। তার কথা শুনতে, তাকে একনজর দেখতে জনসভায় যাব। কারণ তিনি এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার উন্নয়ন করেছেন।’

কামাল হোসেন নামে এক চাকরিজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বহু উন্নয়ন সাধন করেছেন। যশোর তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য তিনি অনেক কিছুই করেছেন। তিনি ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষ কিছু পায়; তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা ভাবেন, তাদের জন্য কাজ করেন। তার কাছে চাইলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তার জনসভায় সাধারণ মানুষের স্রোত নামবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই জনসভায় অভূতপূর্ব গণজাগরণ ঘটাতে হবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর চট্টগ্রামের উন্নয়নের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে বহন করেছিলেন। তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং ৪ ডিসেম্বর তিনি চট্টগ্রামবাসীকে নতুন করে আবার কী উপহার দিতে চান সেজন্য চট্টগ্রামবাসী অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেন, ৪ ডিসেম্বর উৎসব মুখরিত পরিবেশে শুধু পলোগ্রাউন্ড ময়দান নয়, সারা চট্টগ্রাম নগরীকে জনসমুদ্রের জনতরঙ্গে উদ্বেলিত করে তুলতে নেতাকর্মীরা কাজ করছে। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা সফল করতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের গৌরবময় ভূমিকা আছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের কাঁধে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও হয়তো চট্টগ্রামবাসীকে নিরাশ করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

ক্ষমতাসীন দলটির জনসভার আগে-পরে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

তিনি বলেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর জনসভার জন্য পুরো চট্টগ্রাম নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। নগর পুলিশের ছয় হাজার ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও দেড় হাজার ফোর্স আনা হচ্ছে নগরীতে।

তিনি বলেন, “অনেক বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন, যা চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড় উৎসব। পাশাপাশি সিকিউরিটি পয়েন্ট থেকে সিএমপি’র জন্য বড় আয়োজনের ব্যাপার। সে ব্যাপারে আমদের প্রস্তুতি আছে।”

সিএমপি কমিশনার জানান, এসএসএফ’র পরামর্শে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ নিয়োজিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে প্রধানমন্ত্রীর সফরটি যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

সর্বশেষ ১০ বছর আগে ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

Related posts