বর্ষায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা

মোঃ শওকত আলী পারভেজ

সারা আনোয়ারা
৩০-০৬- ১৯ ইং রবিবার

ছয়ঋতুর দেশ বাংলাদেশের ২য় ঋতু বর্ষা।বর্ষার সবুজ গাঢ় শ্যামল সৌন্দর্যে মনপ্রাণ ভরে ওঠে। কত কবি যে বর্ষার রূপে মুগ্ধ হয়ে কবিতা লিখেছেন।

এইসব সৌন্দর্য বাদ দিয়ে চলুন এইবার চিন্তা করি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে

বর্ষায় যেইসব রোগ বেশি হয়

ডেঙ্গুজ্বর:
মেয়ে এডিস মশা কামড় দেয় নিঃশব্দে এবং ফলে ডেঙ্গুজ্বর হয়। ডেঙ্গুজ্বর হলে গায়ে অসম্ভব ব্যথা হয়, দুই চোখে লাল হয়ে যায়। হাত-পায়ের গিরায় গিরায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়। পুরো শরীরে বিন্দু বিন্দু র্যাশ ওঠে বা অসংখ্য লাল রঙের বিন্দু ওঠে।

ডায়রিয়া:
ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হল দূষিত পানি পান। বর্ষার পানির সঙ্গে মিশে জীবাণুগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম। তাই ছোট-বড় সবারই পানি পানে সতর্ক হতে হবে।

কলেরা:
কলেরা হয় রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে। কলেরায় আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে খুব তাড়াতাড়ি পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত চিকিৎসা করা না গেলে রোগী মারাও যেতে পারে।

টাইফয়েড:
বর্ষাকালেই টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। সালমোনেলা টাইফি নামের জীবাণু দ্বারা পানি ও খাবার দূষিত হয় এ সময়। সেই পানি কিংবা খাবার খেলে মানুষ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে জীবাণু অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

হেপাটাইটিস:
হেপাটাইটিস যকৃতের রোগ। হেপাটাইটিসের বেশ কিছু প্রকারভেদ আছে। তার মধ্যে হেপাটাইটিস-এ ও হেপাটাইটিস-ই বর্ষাকালে বেশি হয়। কারণ এ দুটি পানিবাহিত ভাইরাস। দূষিত পানির মাধ্যমে রোগটি মানুষের দেহে ছড়ায়।

কৃমি সংক্রমণ:
বর্ষাকালে কৃমি সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়ে থাকে। বর্ষার পানি আর কাদামাটিতে মিশে থাকে এই জীবাণু।

প্রতিরোধে করণীয়:
*সবসময় বাড়ির আশে পেশে পরিষ্কার রাখতে হবে,পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
* খাওয়ার আগে সব সময় ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। শিশুদের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে এ সময়ে।
* গৃহস্থালি জিনিসপত্র ধোয়ার ক্ষেত্রেও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করুন।
* বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে করে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে যাওয়া ভালো। একান্তই বাইরের পানি পান করতে হলে তা বিশুদ্ধ কিনা, ভালো করে জেনে নিন।
* বাড়িতে পানি ফুটিয়ে পান করার অভ্যাস করুন। একান্তই ফোটানো সম্ভব না হলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট কিংবা ফিটকিরি ব্যবহার করুন।
* তাজা শাকসবজি খেতে হবে। রান্নার আগে শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। পচা-বাসি খবার একদমই খাওয়া যাবে না।

সাধারণত এ নিয়মগুলো মেনে চললে বর্ষার রোগবালাই প্রতিরোধ সম্ভব। তারপরও যদি কেউ আক্রান্ত হয়ে থাকে, সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Related posts