ব্ল্যাক প্যান্থার

চলচ্চিত্রটি নির্মাণের কথা প্রথম উঠেছিল ১৯৯২ সালে। ওয়েসলি স্নাইপ্স বলেছিলেন, শিগগিরই এমন একটি সুপারহিরো চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে মার্ভেল। সে কথা একটা সময় কেবল কথাতেই পরিণত হয়। এরপর আবার একটা শোরগোল ওঠে ২০০৫ সালে। সেই কথানুসারেই ২০১১ সালে লিখতে শুরু করা হয় চিত্রনাট্য। সে লেখা শেষ হতে হতে পেরিয়ে যায় ২০১৪। কিন্তু চলচ্চিত্র আর আসে না। অবশেষে সেই বছর চলচ্চিত্র নিয়ে আবার ঘোষণা আসে। আশা করা হয়, এবার বুঝি চূড়ান্ত রূপ পেয়ে আসছে মার্ভেলের প্রথম ‘ব্ল্যাক’ বা কালো চামড়ার সুপারহিরো চলচ্চিত্র। কিন্তু না, এরপরও কয়েক বছর পেরিয়ে যায়। কিন্তু বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। অবশেষে মুক্তি পেয়েছে প্রতীক্ষিত ছবি ব্ল্যাক প্যান্থার

না, ১৯২৭ বা ১৯৭১ সালের ব্ল্যাক প্যান্থার নয়, বলছি বহু অপেক্ষার পর মুক্তি পাওয়া ২০১৮ সালের মার্ভেল সুপারহিরো চলচ্চিত্র ব্ল্যাক প্যান্থার-এর কথা। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ১৮তম চলচ্চিত্র এটি। মার্ভেল কমিক ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ অবলম্বনে ওয়াল্ট ডিজনির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্মাণ করেছে মার্ভেল এই মুভি। চাডউইক বোসম্যান, মাইকেল বি. জরডান, লুপিতা নিয়োঙ্গো, মার্টিন ফ্রিম্যান, ডানাই গুরিরা প্রমুখ অভিনয় করেছেন ব্ল্যাক প্ল্যান্থার–এ। ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮তে হয়ে গিয়েছে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী। সমালোচক এবং দর্শক—সবারই মন জয় করে নিয়েছে ছবিটি। অনেকের মতে, এটি মার্ভেলের সেরা একটি কাজ হয়ে উঠেছে। মুভির গল্পটা এগোয় ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার-এর পর থেকে। ক্যাপ্টেন আমেরিকাতে হার্ট শেপড একটি ভেষজ খেয়ে ক্ষমতার অধিকারী হয় টি’চাল্লা। নিজের বাবাকে হুট করে হারিয়ে ফেলে। যুদ্ধ শেষ হলে সেখান থেকে রাজা টি’চাল্লা নিজের ঘর ওয়াকান্ডাতে ফিরে যায়। কিন্তু সেখানে ফিরে আর কোনো কিছুই আগের মতো পায় না সে। শত্রুরা তখন রাজ্য দখল করতে ব্যস্ত। ফলে নিজের রাজ্যকে বাঁচাতে ব্ল্যাক প্যান্থার হয়ে আসতে হয় তাকে। হাত মেলাতে হয় সিআইএ এজেন্ট এভিরেট কে রজ এবং ডোরা মেলাজের সদস্য, ওয়াকান্ডার সব বিশেষ নারীশক্তির সঙ্গে। এরপর কী হয়? ব্ল্যাক প্যান্থার এত কিছু তো করল। কিন্তু শেষমেশ কি তার রাজ্যকে বাঁচাতে, বড় একটা যুদ্ধকে থামিয়ে দিতে পারল সে? জানতে হলে কেবল কমিক পড়লেই হবে না, যেতে হবে আপনাকে সিনেমা হলেও।

Related posts

Leave a Comment