বড়উঠানে বসতবাড়িতে ফের বন্যহাতি তাণ্ডব

নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নে ফের হাতির তান্ডব শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের মৌলানা মুহিবুল্লাহ খান বাড়ী ও একই ওয়ার্ডের খিলপাড়া আব্দুল ছবুরের বাড়িতে গতরাতে কেইপিজেডের পাহাড়ী বন্য হাতি প্রবেশ করে ভোর রাত পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় হাতির তান্ডবে ৩টি বাড়িঘর এবং বসতবাড়িতে রাখা প্রায় দুইশো কেজি মত ধান খেয়ে ফেলেছে। তাণ্ডবে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌলানা মুহিবুল্লাহ খান বাড়ীর আনোয়ার হোসেন, মীর হোসেন ও খিলপাড়া গ্রামের আব্দুল ছবুর। এরা সবাই বড়উঠান ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন বলেন বিষয়টি আমি ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তারা সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, প্রায় সময় কেইপিজেডের বন্য হাতি লোকালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। মানুষের ঘরবাড়ি, ধানক্ষেত বিনষ্ট করেছে। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী ও হাতীর মধ্যে গভীর রাতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হাতী তাড়াতে এলাবাসী নির্ঘুর রাত পার করছেন। তাঁরা মশাল জ্বালিয়ে, বাজনা বাজিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। দিনের বেলায় হাতির পালটি কেইপিজেড পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে প্রবেশ করে আবার রাত হলেই লোকালয়ে চলে আসে।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা সুলতানা জানান, বহুবার তিনি বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় জনগণকে হাতির আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য সকলকে নিরাপদ দুরত্বে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি বন বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছেন, যেন ব্যবস্থা নেন।’

কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) এর এজিএম মুশফিকুর রহমান জানান, নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি হাতি যেন লোকালয়ে না যায়। কিন্তু গভীর রাতে প্রায় সময় বণ্যহাতি লোকালয়ে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে মানুষের ক্ষতি করছে। যা অত্যন্ত দূঃখজনক। আমরা চেষ্টা করছি বন বিভাগের সাথে পরামর্শ করে হাতিগুলো দূরে সরানো যায় কিনা।’

Related posts