ভার্চুয়াল প্রেম ও তার পরিণতি

মাসুদুল আলম ইরফান || সারা আনোয়ারা – সাহিত্য আসর (ছোট গল্প)

প্রারম্ভ –
বর্তমানে ইন্টারনেটের নাম শোনেনি কিংবা ইন্টারনেট সম্পর্কে জানে না এ রকম মানুষের সংখ্যা নেহাৎ খুবই কম। অামাদের সামগ্রিক জীবন প্রণালী এখন অনেকটা ভার্চুয়াল নির্ভর।
সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়া এখন অামাদের হাতের মুঠোয় সুতরাং সারা বিশ্বের সাথে এখন অামাদের সম্পর্কে গড়ে ওঠে নিমিষেই।
বাস্তব জীবনের ক্রিয়াকালাপে এর ভয়ানক প্রভাব পরছে। কারণ অামরা সবাই ভার্চুয়াল নেশাগ্রস্থ।

ভার্চুয়াল প্রেমের সূত্রপাত :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহজলভ্য হওয়াতে অামাদের বন্ধুত্বের পরিধি ও বিস্তৃতি লাভ করেছে।
প্রথমে হাই, হ্যালো দিয়ে শুরু বন্ধুত্ব।
প্রোফাইর পিক, স্ট্যাটাস, চ্যাটিং এর ধরণ এসব দেখে মাপা হয় এখন মানুষের কল্পানিক রূপ।
যা ৮০% বাস্তবতার সাথে মিলে না।
ভার্চুয়ালে ওকজন প্রকৃত মানুষ চেনে সত্যি দূরহ্য ব্যাপার।

একজনের সম্পর্কে অারেক জনের খোঁজ খবর নেওয়া, ভালো লাগা গুলো গুরুত্ব দেওয়া, সময় দেওয়া, অাবেগী চ্যাটিং, সারা দিন রাত সময় দেওয়া একে অপরকে।
তারপর দেখা শোনা অতঃপর ঘোরতে বের হওয়া দুজন মিশে যাওয়া।
হারিয়ে যায় একজন অপর জনের মাঝে।
নতুন সম্পর্কটা রূপ নেয় নতুন মিষ্টি প্রেমে।
অতঃপর দুজন স্বর্গের বাসিন্দা
পৃথিবীর এই কোলাহল তাদের স্পর্শ করতে পারে না।
প্রেম হয় মিষ্টি কথার লোভে পড়ে অথবা লম্বা গঠন মায়াবী চেহারার মোহতে অাচ্ছন্ন হয়ে অথবা টাকা দেঝে অথবা একাকীত্ব দূর করার জন্য জন্ম হয় প্রকৃত প্রেম কিংবা ভালোবাসার…!

মেয়েদের দৃষ্টিকোণ থেকে:

মেয়েদের সাথে একটু ভালো করে কথা বললে, তাদের সময় দিলে, তাদের যত্ন করলে, প্রসংশা করলে, তাদের ইচ্ছা মাফিক চললে,
তাদের সবকিছু গুরুত্ব দিলে
মেয়েরা ভাবে ছেলেটা তার জন্য উপযোক্ত।

যদি ও কাব্যের ভাষায়….
“মেয়েদের মন বোঝা বড় দায়
তাদের মন বোঝে না স্বয়ং বিধাতায়…”!

মেয়েদের মন পাওয়া দূরহ্য ব্যাপার হলে ও একবার যে পাবে তার মন সে যেন পেয়েছে গেছে সাত রাজার ধন।
মেয়েরা একবার যাকে বিশ্বাস করে, যাকে ভালোবাসে।
তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
নতুন নতুন হাজারো স্বপ্নের জাল বুনে।
তাদের প্রথম বিশ্বাস ও ভালোবাসা ইস্পাত কঠিন দৃঢ়।

ছেলেদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঃ

মেয়েটা হেসে খেলে কথা বললে, চ্যাটিং এর রিপ্লে দিলে তাতেই ছেলেরা ব্যাকুল..!
যেন সপ্ত রাজ্য জয় করেছে সে, সাত রাজার ধন পেয়েছে..?
“ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে অনেক দ্রুত বিশ্বাসী ও সরল”
——– সাইক্লোলজিষ্টদের মতবাদ অনুসারে
একটা মেয়ে সুন্দর করে কথা বললে, তার চ্যাটিং এ সাড়া দিলে,তাকে সময় দিলে সে তাতেই তৃপ্ত।
তখন শুরু হয় মেয়েটাকে নিজের করে পাওয়ার সংগ্রাম।
হাজারো স্বপ্নের রং ছিড়াই সে…!
তাহে নিয়ে পুরো জীবন পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখে।
তার জন্য অাকাশ থেকে চাঁদ এনে দেওয়ার মত অকল্পিত দুঃসাহসিক কাব্য ও রচনা করে সে।

তার ভালোবাসা হয়তো দেহের লোভে অথবা টাকার লোভে অথবা প্রতিশোধ (ছ্যাকার বদলা) অথবা
একাকীত্ব দূর করার জন্য প্রকৃত ভালোবাসার খোঁজে….!

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঃ

কোমলমতি কিশোর -কিশোরির অাবেগের বয়স (১৩-১৯) এটাকে বয়ঃসন্ধি কাল ও বলা হয়। এই সময়টা একটা কিশোর কিশোরির পরিপূর্ণ বিকাশ, শারীরিক পরিবর্তন ও মানসিক পরিবর্তনের সময়।
এই সময় তাদের শরীরিক পরিবর্তন সমাজ সহজে নিজে পারে না।
তাদের হুট করে বড় হওয়া, শরীবের বিভিন্ন জায়গায় লোম গজানো, ঋতুস্রাব, কন্ঠের পরিবর্তন কন্ঠ ভারী হওয়া ইত্যাদি
মেয়েদের ক্ষেত্রে দৈহিক পরিবর্তনটা বেশ পরিলক্ষিত হয়..
নানা প্রকার সমস্যা ও দেখা যায় তাতে।
কারণ তখন তাদের পরিবর্তন গুলো নিজেরাই দেখে হতবাক হয়ে পড়ে এবং ভীতি কাজ করে তাদের মধ্য।
সে সময়টা তাদের পাশা থাকাটা সকলের অাব্যশিক দায়িত্ব।
তাদের এই অাচরণগুলো দাম্ভিকতা না ভেবে কঠোর শাসনে জালে অাবদ্ধ না করে।
তাদের পাশে থেকে ভালোবেসে বুঝালেই ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
কারণ তখন তারা নিজেদের পৃথীর সবচেয়ে রঙ্গিন মানুষ ও শক্তিশালী মানুষ হিসেবে ভাবে,
নিজেদের সব কর্ম সঠিক হিসেবে ভাবতে শুরু করে।
এই বয়সটা জেদ, অাবেগ, রাগ, অনুভূতি সবগুলোর স্প্রিট একটু বেশী থাকে।
সমাজের সকলে এই বয়সটাকে (১৩-১৯) বক্র চোখে দেখে।
যা মোটেও উচিত নয়।
সকলের উচিত এই সময়টা তাদের পাশে থাকে
পথভ্রষ্ট না হতে সাহায্য করা।
কঠোর শাসন কিন্তু তাদের তিক্ত করে মানষিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
একমাত্র ভালোবাসা দিয়ে তাদের পরিবর্তন সম্ভব।

বাস্তবতা :

“অাজ দুজনার দুটি মন
মিলে হয়েছে এক মোহনা”

সম বয়সী কিংবা অল্প বয়সের পার্থক্যের ক্ষেত্রে এই কবিতাংশটি নিরন্ত এক কল্পিত স্বপ্নিল বাক্য মাত্র।
একটা ছেলে প্রতিষ্টিত না হওয়া পর্যন্ত সে পরিবার, সমাজের ও দেশের বোঝা স্বরূপ। অামাদের মত তৃতীয় বিশ্বের এ দেশে ৩০ বছর বয়সের অাগে একটা ছেলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেরিয়ে একজন কর্মজীবী হয়ে ওঠতে পারে না

পর্ব দুই –

বেকার কে কেউ মেয়ে দিবে না সেটা অামরা সকলেই জানি।
অামার বোনকে অামি কোন বেকারের হাতে তুলে দিব না।
কোন বাবা-মা ভুলে ও দিবে না।
সুতরাং অামি বেকার থেকে কিভাবে অন্য মেয়েকে পাবার অাশা করি…?
সে ও অন্য কারো বোন, মেয়ে।
ভালোবাসা অার অাবেগ দিয়ে সংসার ও সমাজ চলে না।
সংসার অার সমাজ চলে টাকা দিয়ে।
মেয়টা অামাকে ছেড়ে পরিবার ও পরিস্থিতির কারণে চলে গেলে।
তখন সব দোষ মেয়েটার।
মেয়েটা সুবিধাভোগী, লোভী, চরিত্র খারাপ, প্রতারক ব্লা ব্লা অারো কত কি….?

অার মেয়েটা পালিয়ে গেলে…
তখন ও সে লম্পট, চরিত্রহীন।
সমাজে তার পরিবার ও সে মুখ দেখাতে পারে না।
এসব না বুঝে অামরা চলে যায় নেশার জগৎ কিনবা অাত্মহত্যার মত কাপুরুষত্ব সিদ্ধান্তে।

অামাদের বাবা-মা পরিবার অামাদের লালন পালন করে এই দিনের দেখার জন্য বড় করেছে কি….?
নিজেকে শেষ করা মানে ব্যর্থ, হেরে যাওয়া।
বরং নিজেকে প্রমাণ করুণ সমাজের একজন সুপুরুষ হিসেবে। কাপুরুষের মত পরাজিত হয়ে মাথা নিচু করে অাত্মহত্যা নই।
ঘোরে দাঁড়ান মাথা উঁচু করে বাচঁতে শিখুন।
নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য।

হা সে সমাজ, সে দেশের জন্য
যে দেশ প্রতিটা পদে পদে তোমাকে সমালোচিত করেছে, অন্ধকারে টেলে দিয়েছে।
সে সমাজ ও দেশের দিকে অাঙ্গুল থাক করিয়ে দেখিয়ে দিন অামি ও পারি।

স্বপ্ন দেখানো ছেলেটা তোমাকে ভালোবেসেছিল তার স্বার্থের জন্য।
তবে একেক জনের উদ্দ্যশ্য একেক রকম।
কেউ দেহ ভোগের জন্য, কেউ টাকার জন্য, কেউ প্রকৃত ভালোবেসে তোমাকে জীবন সঙ্গী করার জন্য।
সহজে বিশ্বাস করে ছেলেটার কাছে যখন সব হারাও
তখন পুরো ছেলে জাতির ঘাঁড়ে বদনাম চাপাও…..?
কেন একবার ও চিন্তা কর নি তোমার বাবা-মা বেকার ছেলের কাছে তোমাকে বিয়ে দিবে না।
তোমার চাপ প্রয়োগ তোমার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না।
সবে মাত্র অনার্স শেষ করা একটা ছেলেকে তুমি বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তা কখনো সফল হবে না।
কারণ ছেলেটাকে প্রতিষ্টিত হতে হলে অারো কমপক্ষে ৫ টা বছর সময় দরকার।
তোমার পরিবার তো ততদিন মানবে না।
অপেক্ষা করতে পারবে না তুমি ও পরিবারের উপর কথা বলতে পারবে না।

দোষটা তোমার পরিবারের নই….
কারণ তোমার বয়স ২০ হলেই সমাজ তোমাকে বুড়ি বানিয়ে দিবে।
তোমাকে নানা অপবাদ দিবে। যা তোমার পরিবার মানতে পারবে না।
তোমার পরিবার সে কলঙ্ক থেকে বাঁচতে তোমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ওঠেপরে লাগে।
উদ্দেশ্য তোমাকে সমাজের বক্র দৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য,
দায়ভার মুক্ত হওয়ার জন্য নই….?

ভার্চুয়াল জগৎটা খুব সহজে অাপন করার জন্য, বর্তমান সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে অাপনার সন্তানের হাতে স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ তুলে দিচ্ছেন ভালো কথা।
প্রযুক্তির ক্যালানের ভালো-মন্দ দুটাই হাতের মুঠোয়।
নিষিদ্ধ জিনিসে মানুষের অাগ্রহ বেশী।
তাই তার সঠিক যাচাই -বাচাই করুন।
সন্তানের খবর রাখুন নিয়মিত।
সন্তানকে সময় দিন।
তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলুন।
মাঝে মাঝে পরিবার সহ ঘোরতে বের হোন প্রকৃতির সাথে সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিন।
খেলাধুলার জন্য উৎসাহ দিন।
তাহলে ভার্চুয়াল নির্ভরতা কমবে।

তাকে ভালোবাসার ডোর দিয়ে বেঁধে রাখুন।
ছেড়ে দিন মুক্ত পৃথিবীতে….
তবে সবসময় তার পাশে থেকে
তাহলে অাপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল
অন্যথায় ঘোর অন্ধকার…!

অাপনার খেয়ালিপনা যেমন তার জীবন অন্ধারচ্ছন্ন করে
টিক তেমনি অাপনার যথাযথ দায়িত্ব তাকে সুন্দর জীবনের সিঁড়ি দেখায়……!

Related posts

Leave a Comment