শীত মানেই চারদিকে পিঠা-পুলির উৎসবঃভাপাঁ পিঠা

রিপোর্ট
মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম

রিপোর্টার
সারা আনোয়ারা
১৮-১২-২০১৮

ভাঁপা পিঠা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা। যা প্রধানত শীত মৌসুমে প্রস্তুত করা ও খাওয়া হয়। এটি প্রধানত চালের গুঁড়া দিয়ে জলীয় বাষ্পের আঁচে তৈরী করা হয়। মিষ্টি করার জন্য দেয়া হয় গুড। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য
নারকেলের শাঁস দেয়া হয়। খেজুর রসে চুবিয়ে ভাপাঁ পিঠার স্বাদ গ্রহণ করা অন্য রকম এক অনূভূতি। ঐতিহ্যগতভাবে এটি একটি গ্রামীণ নাশতা হলেও বিংশ শতকের শেষভাগে প্রধানত শহরে আসা গ্রামীণ মানুষদের খাদ্য হিসাবে এটি শহরে বহুল প্রচলিত হয়েছে। রাস্তাঘাটে এমনকি রেস্তুরাঁতে আজকাল ভাঁপা পিঠা পাওয়া যায়।ঢেঁকি বাঙালি জীবনে পিঠার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে সম্পৃক্ত। ঢেঁকিতে ভাঙ্গা চালের গুড়ার ভাপাঁ পিঠার স্বাদ অনন্য।

ভাপাঁ পিঠা তৈরীর উপকরণঃচালের গুঁড়া এক কেজি, খেজুরের গুড় আধা কেজি, নারিকেল কোরানো, লবণ সামান্য।

প্রস্তুতিঃ
চালের গুঁড়ায় সামান্য লবণ ও পানি মিশিয়ে মেখে নিতে হয়। তারপর একটি বাঁশের বা প্লাস্টিকের চালুনি দিয়ে মাখানো চালের গুঁড়াগুলো চেলে নিতে হয়। এরপর নারিকেলের চাঁছা ও গুড় মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে শুকনা করে পাকিয়ে নিতে হবে।

কৌশলঃ
ভাঁপা পিঠা তৈরী করা কৌশলের ব্যাপার। কেননা এটির জন্য পৃথক ব্যবস্থা লাগে। জলীয় বাষ্পের আঁচে এটি তৈরী করতে হয়। এজন্যে একটি মাটির পাতিল আধা ইঞ্চি গোল ফুটো করে আঠা দিয়ে পাতিলের মুখে আটকে নিতে হয়। পাতিলের অর্ধেক পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে পানি ফুটাতে হয়। ছোট একটি বাটিতে প্রথমে মাখানো চালের গুঁড়া ও মাঝখানে নারিকেল পাকানো দিয়ে বাটি ভর্তি করে বাটির মুখ পাতলা কাপড় দিয়ে মুড়ে ফুটন্ত হাঁড়ির ছিদ্রতে বসিয়ে ভাপা পিঠা দুই মিনিট সেদ্ধ করতে হয়। তারপর গরম গরম খেতে হয়। সেদ্ধ হওয়ার সময় গুড় গলে বাইরে বেরিয়ে আসলে সাদা চালের গুঁড়ার ফাঁকে ফাঁকে গুড়ের উঁকি মনোরম দেখায়।

Related posts

Leave a Comment