সিইউএফএল কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানি খেয়ে ১২ মহিষের মৃত্যু !

নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানির (সিইউএফএল) নির্গত গ্যাসের বর্জ্য বারশতের বসুন্ধরা মাছের চর দিয়ে গোবাদিয়া খালে প্রবেশ করছে। ফলে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে ওই খালের পানিও। বিভিন্ন সময়ে এ খালের পানি খেয়ে মহিষের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ মে) দুপুরে গোবাদিয়া খালের পানি খেয়ে স্থানীয়দের ১২টি মহিষের মৃত্যু হয়েছে।

গবাদি পশু মারা যাওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, কারখানার বিষাক্ত পানি স্থানীয়দের অবগত না করে খালে ছাড়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোহাম্মদ এরফান আলীর ৩টি, আবদুল মালেকের ৩টি ও আনোয়ার হোসেনের ২টি ইব্রাহীমের ২ টি, ইউসুফের ১টি ও মোবারকের ০১টি মহিষ বিষাক্ত বর্জ্য পানি খেয়ে মারা যায়।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরির্দশনে আসেন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানির (সিইউএফএল) ল্যবরেটরির ডেপুটির প্রধান রূপ শংকর চৌধুরী। তিনি বলেন, মহিষের মৃত্যুর ঘটনার পর আমরা খালের পানি সংরক্ষণ করেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি সিইউএফএলে সার তৈরির পর নির্গত বিষাক্ত পানি বারশত ইউনিয়নের গোবাদিয়া খাল দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। খালের আশপাশে স্থানীয়দের গরু-ছাগল ও মহিষ বিচরণ করে থাকে। পূর্বে কারখানার বিষাক্ত গ্যাসের পানি ছাড়লে আগে এলাকায় মাইকিং করত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কোনো সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের মাইকিং ছাড়াই কারখানার বিষাক্ত পানি ছেড়ে দিলে স্থানীয়দের গরু-মহিষ-ছাগল এই বিষাক্ত পানি পান করে মারা যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ এরফান আলী বলেন সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের কোনো ধরনের অবগত না করে বিষাক্ত বর্জ্য পানি ছাড়াতে তার মহিষের মৃত্যু হয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। এরফান আলী বলেন, আমাদের স্থানীয়দের প্রায় আড়াইশ গরু-মহিষ আছে। এখন আমরা এ গুলো নিয়ে আতঙ্কে আছি। দুপুর পর্যন্ত আটটি মহিষ মারা গেছে। আমরা খুঁজে দেখছি আর কোথাও মরে পড়ে আছে কিনা। এরআগেও খালের পানি খেয়ে মহিষের মৃত্যু হয়েছে। সেটার ক্ষতিপূরণও দেয়নি সিইউএফএল কতৃপক্ষ।

স্থানীয় চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য পানি ছাড়ার সময় মাইকিং না করায় প্রায় সময়ই এ দূর্ঘটনা ঘটছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে আজ স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক সময়ে বিষাক্ত পানি ছাড়ার দিনক্ষণও জানিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন স্থানীয়দের কোনো প্রকার অবহিত না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।

এ বিষয়ে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও উনাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমি সিইউএফএল’র সাথে যোগাযোগ করেছি। ওরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেছে। ওদের কারখানার বর্জ্যের কারণে মহিষ গুলো মারা গেছে কিনা বিষয়টি আমি অবশ্যই দেখব।

Related posts