স্বাস্থ্যকর সাবুদানা

শাহনাজ বেগম || জ্বর হয়েছে সাগু খাননি এমন লোক অবশ্য খুবই কম আছে। বিস্বাদ মুখে সাগু কিছুটা হলেও স্বস্থি দেয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কীভাবে সাগু উৎপাদন হয়। সাগু বা সাবুদানা আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটা খাবার। এটি সাধারণত রোগী বা বাচ্চাদের খাওয়ানো হয়। আসুন জেনে নেই কীভাবে সাগুদানা আমাদের খাবার উপযোগী হয়।


সাগুর উৎস কী?

সাগু দানার মূল উপাদান এক প্রজাতির পাম গাছ। এই পাম গাছ লম্বায় ৬ থেকে ১৬ মিটার পর্যন্ত হয়। কখনো কখনো ২৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ২৫টির মতো পাতা হয়। মজার কথা হলো এই গাছে মাত্র একবারই ফুল ফোটে এবং ফল ধরার পর গাছ মারা যায়।
এখন কথা হচ্ছে, গাছের কোথায় সাগু ধরে? এটা অনুমান করা সহজ কিন্তু সঠিক উৎসটা বলা কল্পনায়ও আসার কথা নয়। আসলে সাগু পাওয়া যায় এই পাম গাছের কান্ডের নির্যাস থেকে।

কেই কেউ ভাবে সাগু আসলে পাম গাছের ফল। কিন্তু ধারণাটা যে মিথ্যে তা এই গাছের ফল দেখলেই বুঝতে পারবেন।

কীভাবে পাওয়া যায়?

সাত থেকে পনের বছর পর সাগু গাছ যাখন ফুল ধরার সময় হয় তখন সেটা কেটে এর কাণ্ডকে চিড়ে ফেলা হয়। এরপর এর কাণ্ডের ভেতরের নরম ‘পিথ’কে ধারালো কিছু দিয়ে কুপিয়ে আলাদা করা হয়। এরপর একে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর ভেতরের স্টার্চ তরলের নিচে জমা হয়। পানি দূর করে এই সাদা রংয়ের স্টার্চকে আলাদা করে শুকানো হয়। একেই বলে সাগু। একটি গাছ থেকে ১শ ৫০ থেকে ৩শ কেজি পর্যন্ত সাগু পাওয়া যেতে পারে।
সাগু বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রথমে ময়দা আকারে পাওয়া যায়। একে ইচ্ছে করলে ময়দা আকারেও খাওয়া যায়। কিন্তু বাজারজাতের জন্য একে মেশিনের সাহায্যে দানা করে তারপর খাওয়াও জন্য তৈরি করা হয়। সাগুদানাকে ইংরেজিতে ‘সাগু পার্ল’ বলে।

সাগু প্রধানত উৎপাদিত হয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভারতে।এবার আসুন কীভাবে পাম গাছ থেকৈ সাগু পাওয়া যায় তার কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপ:

স্টেপ-১: কাণ্ডের ভেতর থেকে পিথ আলাদা করা হচ্ছে।

স্টেপ-২: পিথা পানিতে ভেজানো হচ্ছে।

স্টেপ-৩: পানির নিচে সাদা স্টার্চ (সাগু)

স্টেপ-৪: এরপর এভাবে আটার মতো করে শুকানো হয়।

স্টেপ-৫: সেই আটার মতো সাগুকে মেশিনের সাহায্যে দানা করা হয়।

স্টেপ-৬: শেষে রান্নার পর যেমনটি হয় সেটা সবারই চেনা।

Related posts

Leave a Comment